❌ মিথ্যা (False)

আয়াসকে নিয়ে অস্তিত্বহীন মিডিয়ার নামে এআই-নির্মিত ফটোকার্ড প্রচার

M

Mahfuz Hamdan

❌ মিথ্যা (False)
আয়াসকে নিয়ে অস্তিত্বহীন মিডিয়ার নামে এআই-নির্মিত ফটোকার্ড প্রচার

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি দেওয়ার ঘটনায় রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আ ন ম আয়াসসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ১০ অক্টোবর তাঁদের আটক করা হয়। এবং পরদিন অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে আদালত তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে পাঠান। ঘটনাটি নিয়ে আয়াসকে ঘিরে বিভিন্ন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে।


এরই মধ্যে লেখক মহিউদ্দিন মোহাম্মদের ফেসবুক পেজ থেকে আয়াসকে নিয়ে একাধিক ফটোকার্ড প্রচার করা হয়েছে। ফটোকার্ডগুলোতে বিভিন্ন ঘটনা ও বক্তব্যের দাবি করা হলেও অনুসন্ধানে এসব দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।


১১ অক্টোবর প্রচারিত একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, “ডিবি কার্যালয়ে জুলাই যোদ্ধা আয়াস। পুলিশ কর্মকর্তার পা ধরে বারবার বলছেন, প্লিজ আমাকে ছেড়ে দেন, আমাকে ব্যবহার করা হয়েছে।” ফটোকার্ডটিতে ‘LEGALDIGEST’ নাম ও লোগো ব্যবহার করা হয়েছে।


একই দিন প্রচারিত আরেকটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, “আদালতের গারদ খানায় জুলাইযোদ্ধা আয়াসকে অন্য আসামিদের চড়-থাপ্পড় ও জুতা নিক্ষেপ।” এতে ‘DHAKAFACT’ নাম ও লোগো রয়েছে।


পরদিন ১২ অক্টোবর প্রচারিত আরেকটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, “রিমান্ডে নিজেকে রবীন্দ্রনাথের ভক্ত দাবি জুলাই যোদ্ধা আয়াসের। তদন্ত কর্মকর্তা বললেন, রবীন্দ্রনাথের একটি কবিতা বলুন। আয়াস বললেন, ঐ দেখা যায় তালগাছ।” ফটোকার্ডটিতে ‘LEGALDIGEST’-এর নাম ব্যবহার করা হয়েছে।


একই দিনে প্রচারিত আরও একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, “আদালতে আয়াসের আইনজীবী। জেলখানায় আওয়ামী লীগের লোকদের মাঝে না রাখার আবেদন। পিটিয়ে মেরে ফেলার আশঙ্কা।”


তবে এসব দাবির কোনোটিরই নির্ভরযোগ্য সূত্র পাওয়া যায়নি। প্রচারিত ফটোকার্ডগুলোতে ‘LEGALDIGEST’ ও ‘DHAKAFACT’ নামে দুটি প্ল্যাটফর্মের পরিচয় ব্যবহার করা হলেও অনুসন্ধানে এই নামে কোনো প্রতিষ্ঠিত বা সক্রিয় সংবাদমাধ্যমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ‘LEGALDIGEST’-এর ফটোকার্ডে ওয়েবসাইট হিসেবে legaldigestbd24.com ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই ঠিকানা অনুসন্ধান করেও কোনো কার্যকর ওয়েবসাইটের সন্ধান পাওয়া যায়নি।


এছাড়া আয়াসকে গ্রেপ্তার, রিমান্ড এবং তাঁকে ঘিরে বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে দেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু অনুসন্ধানে প্রচারিত চারটি ফটোকার্ডে থাকা বক্তব্য বা ঘটনাগুলোর কোনোটি নিয়ে নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। ১০ অক্টোবর আয়াসকে আটকের খবর এবং ১১ অক্টোবর তাঁর গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের বিষয়টি একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।


বিশেষ করে প্রচারিত দাবিগুলোর মধ্যে ডিবি কার্যালয়ে পুলিশ কর্মকর্তার পা ধরে আয়াসের কান্নাকাটি, আদালতের গারদে অন্য আসামিদের দ্বারা তাঁকে মারধর, রিমান্ডে রবীন্দ্রনাথের কবিতা বলা কিংবা কারাগারে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে না রাখার জন্য আইনজীবীর আবেদন, এ ধরনের নির্দিষ্ট ও ঘটনাভিত্তিক তথ্যের কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি।


ফটোকার্ডগুলোর উৎস ও তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি এগুলোর তৈরি হওয়ার ধরনও পরীক্ষা করা হয়। এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল Hive Moderation-এ চারটি (১, ২, ৩, ৪) ফটোকার্ডই ৯৯ শতাংশের বেশি সম্ভাবনায় এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি OpenAI-এর অফিসিয়াল ভেরিফিকেশন টুল ব্যবহার করে চারটি ফটোকার্ডেই OpenAI-উদ্ভূত SynthID ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করা হয়েছে।

OpenAI-এর অফিসিয়াল ভেরিফিকেশন টুল’র রেজাল্ট


অর্থাৎ, ফটোকার্ডগুলোর শুধু কথিত সংবাদমাধ্যমের পরিচয়ই যাচাইযোগ্য নয়, ফটোকার্ডের ভিজ্যুয়াল উপাদানও এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার শক্তিশালী প্রযুক্তিগত ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ‘LEGALDIGEST’ ও ‘DHAKAFACT’ নামের কোনো বাস্তব সংবাদমাধ্যমের অস্তিত্বও অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি এবং দাবিগুলোর পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্রও মেলেনি।


সবকিছু মিলিয়ে,  মহিউদ্দিন মোহাম্মদের ফেসবুক পেজ থেকে আয়াসকে নিয়ে প্রচারিত চারটি ফটোকার্ডের দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফটোকার্ডগুলোতে ‘LEGALDIGEST’ ও ‘DHAKAFACT’ নামে  দুটি অস্তিত্বহীন ও কাল্পনিক মিডিয়ার পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে।  পাশাপাশি প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে চারটি ফটোকার্ডই এআই-নির্মিত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। ফলে এসব ফটোকার্ডে প্রচারিত তথ্য বিভ্রান্তিকর।

আরও পড়ুন