সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে, “মধ্যরাতে সালমান মুক্তাদিরকে নিজ শোরুমে মারধর করতে আসে দুর্বৃত্তরা।” প্রচারিত ভিডিওটিতে সালমান মুক্তাদিরকে উত্তেজিত অবস্থায় কথা বলতে দেখা যায়।
এমন দাবিতে প্রচারিত কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দাবিটি সঠিক নয়। ভিডিওটি কোনো হামলা বা মারধরের ঘটনার নয়, এটি একটি প্রচারণামূলক কনটেন্টের অংশ।
ভিডিওটির কি-ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করে সালমান মুক্তাদিরের ফেসবুক পেজে এর মূল ভিডিওটি পাওয়া যায়। সেখানে ভিডিওটি ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ প্রথম প্রচার করা হয়। ভিডিওটির ক্যাপশনে সালমান মুক্তাদির লেখেন, “আমি সাধারণত এরকম রিঅ্যাক্ট করি না। Splayd 1.0 এর মালিক সাদ, ধানমন্ডির স্থানীয় বাসিন্দা আমাকে এভাবে রিয়েক্ট করতে বাধ্য করেছে।”
মূল ভিডিওতে সালমান মুক্তাদিরকে বলতে শোনা যায়, “উনি বলছে উনি নাকি কাস্টমারকে এভরিডে একটা করে আইফোন গিফট করবে রমজানের শেষ পর্যন্ত। কত বড় মিথ্যুক।” এর জবাবে সংশ্লিষ্ট শপের মালিককে বলতে শোনা যায়, “মিথ্যা কি বলছি? ঢাকার চারটা ব্রাঞ্চ সহ সিলেট, খুলনা, চিটাগং, রাজশাহীর সকল কাস্টমার মিলে প্রতিদিন একটা করে আইফোন পাবে। আপনি মিয়া ফালতু কন্টেন্ট বানান! আপনাকে দিয়ে হবে না, যান।”
পরবর্তী অংশে সালমান মুক্তাদির ওই শপের মালিক ও তাদের আইফোন উপহার দেওয়ার ক্যাম্পেইন নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। পুরো ভিডিওটি পর্যালোচনা করলে এটি যে একটি প্রচারণামূলক কনটেন্ট, তা স্পষ্ট হয়। ভিডিওর শুরুতে সালমানের উত্তেজিত হয়ে কথা বলার অংশটিও ওই কনটেন্টের উপস্থাপনার অংশ।
অন্যদিকে, বর্তমানে যে দাবিতে ভিডিওটি প্রচার করা হচ্ছে, সেখানে মূল ভিডিওর মাত্র কয়েক সেকেন্ডের অংশ আলাদাভাবে কেটে ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ভিডিওটির প্রকৃত প্রেক্ষাপট বাদ পড়ে গিয়ে বিভ্রান্তিকর দাবি তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইসিবি চত্বরে সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় রয়েছেন তিনি।
অতএব, সালমান মুক্তাদিরকে মধ্যরাতে তার শোরুমে দুর্বৃত্তরা মারধর করতে এসেছিল, এমন দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি বিভ্রান্তিকর। ২০২৫ সালের মার্চে প্রকাশিত একটি প্রচারণামূলক ভিডিও থেকে কয়েক সেকেন্ডের অংশ কেটে নিয়ে সেটিকে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে প্রচার করা হচ্ছে।